নতুন সংগঠনের নেতৃত্বে শাকিব খান, সাথে থাকবেন বাপ্পারাজ ও মৌসুমী

334

বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের নতুন সংগঠন ‘চলচ্চিত্র ফোরাম’র নেতৃত্বে আসছেন চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় শিল্পীরা। তাদের মধ্যে শিল্পী সমিতির দুইবারের সভাপতি শাকিব খানকে এক নম্বর কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এক নম্বর কার্যনির্বাহী সদস্য (ইসি) পদটির বিশেষত্ব হচ্ছে, সভাপতির অনুপস্থিতিতে ওই সদস্য সভাপতির দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। এছাড়া সভাপতি চাইলে তার ক্ষমতা ওই এক নম্বর ইসির কাছে হস্তান্তর করতে পারেন।

নতুন এই সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে চিত্রনায়ক বাপ্পারাজকে। আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে থাকছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। প্রাথমিকভাবে গঠন করা এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে প্রযোজক নাসিরউদ্দিন দিলুকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে কাজী হায়াতকে।

কমিটির বিভিন্ন পদে থাকবেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজ, ওমর সানি, অমিত হাসান, মোহাম্মদ ইকবাল, নাদের চৌধুরী, ববিসহ আরও অনেকেই। চমক হিসেবে শোনা যাচ্ছে নির্মাতা ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনেরও নাম।

এই সংগঠনে এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক শিল্পী-কলাকুশলী নাম লিখিয়েছেন। যাদের নাম এবং সংঠনের কার্যাবলি সবকিছুই আনুষ্ঠানিকভাবে ২ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে।

চলচ্চিত্র পরিবারের আহ্বায়ক নায়ক ফারুক চলচ্চিত্র ফোরামের যাত্রা শুরুর বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে এক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কোনো সংগঠন হচ্ছে কিনা সেটি আমার দেখার বিষয় না। হলে ভালো। যদি তারা চলচ্চিত্রের ভালো করতে পারে তাহলে তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

ফারুক আরো বলেন, ‘ঘরে ঘরে একটি করে সংগঠন তৈরির অধিকার আছে সবার। আর সুপারস্টারের সঙ্গে সংগঠন থাকতেই পারে! আসল কথা হচ্ছে, কেউ সংগঠন তৈরি করলে চলচ্চিত্র পরিবারের কিছু আসে যায় না।’

গেল কয়েক মাস ধরেই ঢাকাই চলচ্চিত্রে অস্থিরতা বিরাজ করছে। পাশাপাশি শিল্পী সমিতির গেল নির্বাচনে সভাপিতি পদে পরাজিত প্রার্থি চিত্রনায়ক ওমর সানী নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। তাকে সমর্থন দিয়ে বিপুল ভোটে সদস্য নির্বাচিত হয়েও সমিতির কমিটি থেকে সরে দাঁড়ান মৌসুমী।

তখন থেকেই চেষ্টা চলছিলো নতুন সংগঠনের। তবে ধারণা করা যাচ্ছে, আগের সব দ্বন্দ্ব-সংঘাতের জের ধরেই চলচ্চিত্র পরিবারের উপর ক্ষুব্দ নির্মাতা, প্রযোজক, শিল্পীরা মিলে নতুন এই সংগঠনটি করতে যাচ্ছেন। তবে এই সংগঠনটি রয়েছে সমালোচনার মুখে।

সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে বাপ্পারাজের নাম। নিজের বাবা নায়করাজ রাজ্জাকের স্মরণসভায় এসে চলচ্চিত্রের মানুষদের বিভাজন নিয়ে মন খারাপ করে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, চলচ্চিত্রের স্বার্থে সবাইকে এক হয়ে থাকতে হবে। চলচ্চিত্রের মূল সংগঠনগুলোকে পাশ কাটিয়ে গঠিত হতে যাওয়া নতুন সংগঠনে তার নাম দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। হচ্ছে নানান আলোচনাও।

সবার প্রত্যাশা- ব্যক্তিগত ক্ষোভ, ক্ষমতার লোভ, জনপ্রিয়তার অহংকার আর দুষ্ট স্বার্থকে পাশ কাটিয়ে একই ছায়াতলে ফিরে আসবেন চলচ্চিত্রের সকল মানুষেরা। মুখোশের আড়াল ভেঙ্গে জুনিয়র-সিনিয়র সবাই মিলেমিশে হাল ধরবেন বেহাল দশায় আক্রান্ত ঢাকাই ছবির।

সংগঠনটি নিয়ে এফডিসিসহ কাকরাইলপাড়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে অনেক কথাই। যা সার্বিক চলচ্চিত্রের ইমেজকে ফেলেছে করুণ সংকটে। এমনটাই মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা। তবে মুমূর্ষ এই চলচ্চিত্র শিল্পটিকে বাঁচাতে একতার বড় প্রয়োজন।