‘ঢাকা অ্যাটাক’ এর ‘অ্যাটাক’ নিয়ে যা বললেন তারকারা (ভিডিও)

323

গত ৬ই অক্টোবর সারা দেশে মুক্তি পেয়েছে আলোচিত সিনেমা ‘ঢাকা অ্যাটাক’। এরপর থেকেই যেন প্রশংসার জোয়ারে ভাসছে এই সিনেমা। দর্শকদের মনই নয়, তারকাদের মনও জয় করে নিয়েছে সিনেমাটি। তারকারাও বিভিন্ন ভাবে জানাচ্ছেন তাদের মতামত।

অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন- ‘ছবি কিন্তু অনেক পছন্দ হয়েছে। পরিচালক দর্শকের জন্য ছবিটি বানিয়েছেন। ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে নায়িকা নিয়ে ঘোরার জন্য বানাননি। গাদা গাদা বিদেশী সিনে ম্যাগাজিনের রিভিউ বেচার চেষ্টা করেন নাই। কাহিনীকার সানি সানোয়ার তামিল ছবি কিংবা কারও জীবন কপি করেন নাই। বাংলাদেশের মতো স্বল্প পরিসরের কারিগরি রসদ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের ছবি বানানোর চেষ্টা করেছেন। হ্যাটস অফ দীপংকর দীপন। আমার বাংলা সিনেমা না দেখা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া কর্পোরেট বন্ধুরাও ছবি দেখে আনন্দ পেয়েছে। ‘টিকাটুলির মোড়’ গানটির সঙ্গে তাল মিলিয়েছে। বোম্ব ডিসপোজালের পর নিজের অজান্তেই আমরা হলভর্তি দর্শকের সাথে তালি দিয়েছি। অফিসার আশফাকের অনাগত সন্তানের কথা ভেবে আবেগি হয়েছি। মানসিকভাবে অসুস্থ জিসানের ক্রুরতায় শিউরে উঠেছি। দেশের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের অবসরহীন দায়িত্ববোধ দেখে আপ্লুত হয়েছি। সত্যিকারের বেশকিছু পুলিশ অফিসার ছিলেন এই ছবিতে, প্রত্যেকের কাছ থেকেই সাবলীল অভিনয় বের করে নিয়েছেন পরিচালক। পরীক্ষিত অভিনেতা শতাব্দী ওয়াদুদের পাশাপাশি এবিএম সুমন ছিলেন দুর্দান্ত। কথায় কথায় ডাবল বলা নাম না জানা অভিনেতাও নজর কেড়েছে। আর জিসান চরিত্রে তাসকিন আমার শৈশবের সরল সাদাসিধা বন্ধুটা এমন অসুস্থ একটা চরিত্রে যা করে দেখাল! অঞ্জন, বন্ধু তুমি বর্ন অ্যাকটর। সবশেষে পরিচালককে বলতে চাই, দাদা আপনি মুক্তিযুদ্ধের একটি ছবি বানান। দর্শক হিসাবে আমি অপেক্ষায় থাকব।’

ছবি কিন্তু অনেক পছন্দ হইছে… পরিচালক দর্শকের জন্য ছবিটা বানাইছেন.., ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে নায়িকা নিয়ে ঘুরার জন্য বানান ন…

Posted by Meher Afroz Shaon on Sunday, October 8, 2017

নাট্য নির্মাতা ও অভিনেতা মোস্তফা কামাল রাজ নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন- ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সবার সিনেমা। অ্যাকশন, সাসপেন্স, ইমোশন সবই আছে। অ্যারাঞ্জমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড। দীপংকর দীপন ভাইয়া আপনি সফল। গল্প এবং স্ক্রিনপ্লে অসাধারণ। সবচেয়ে পজিটিভ হচ্ছে সবার অভিনয়। আরফিন শুভ তোমাকে নিয়ে বলি, এই চরিত্র তোমার, তুমি ছাড়া কাউকে এই চরিত্রে ভাবা পসিবল না। পারফেক্ট অভিনয়, আহা কি পার্সনালিটি! অনেক অনেক বেশি ভালো লাগছে। এবিএম সুমন জোশ। শতাব্দী ওয়াদুদ আপনিতো তো আপনি। তাসকিন তুমি ক্রাশ। মাহিয়া শারমিন আক্তার নিপা তোমার এন্ট্রিটাই ভালো লাগছে আর বাকি সবকিছু সাবলিল ছিল। নওশাবা তুমি অল্পতে মুগ্ধ করেছে। এই প্রথম কোনো আইটেম গান শেষ হওয়ার পর মনে হলো কেনো শেষ হয়ে গেল আহা টিকাটুলির মোড়। এবার আসি ছবির কথায়, শুধু এইটুকু বলবে, ছবির শেষে যখন বাংলাদেশের পতাকা, অশুভ শক্তির পরাজয়, নওশাবা সুমনের মেয়ের জন্ম বাকিটা বুঝে নিন। দীপন দা স্যালুট আপনাকে।’

"ঢাকা অ্যাটাক" সবার সিনেমা। অ্যাকশন, সাসপেন্স, ইমোশন সবই আছে। অ্যারাঞ্জমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ষ্ট্যাণ্ডার্ড । Dipankar…

Posted by M M Kamal Raz on Sunday, October 8, 2017

চলচ্চিত্র নির্মাতা সানিয়াত এস হোসেন লিখেছেন- ‘আমার বাণিজ্যিক সিনেমা খুব ভালো লাগে, মানে যদিও বন্ধুবান্ধব একটু পোপ বলে ক্ষ্যাপায় আমাকে তারপরও।। ভাবি, থাক জনগণ যেটা বোঝে না, ওটা আমিও বুঝি না, কী আর করব, ম্যাংগো পিপল সিন্ড্রোম। কিন্তু আজ আরাম লাগলো অনেক, অনেকদিন পর একটি ঠিকঠাক বাণিজ্যিক বাংলা সিনেমা দেখে। খুব ভালো হয়েছে ঢাকা অ্যাটাক। পুরোই পয়সা উসুল বিনোদন। আমার দেখা চলতি সময়ের সেরা বাংলাদেশি পুলিশ থ্রিলার। খুবই ভালো নির্মাণ, মনে রাখার মতো অভিনয়, দারুণ গান আর অনেক আয়োজন। দারুণ শুভ, সুপার সুমন, অনবদ্য শতাব্দী, আহ্লাদি নওশাবা, নাচিয়ে মিমো আর ট্রাম্প কার্ড তাসকিন। দর্শক শিস বাজিয়ে, তালি দিয়ে রবিবার সন্ধ্যার শো দেখছে সিনেপ্লেক্সের সবচেয়ে বড় চার নম্বর হলে। তাও আবার স্পেশাল শো অন পাবলিক ডিমান্ড। আর কী চাই। অল দ্যা বেস্ট দীপন ভাই। জমিয়েছ কিন্তু তুমি।’

আমার বাণিজ্যিক সিনেমা খুব ভালো লাগে, মানে যদিও বন্ধুবান্ধব একটু PoP বলে খ্যাপায় আমাকে তারপরও।। ভাবি, থাক জনগণ যেটা বুঝে…

Posted by Saniat S Hossain on Sunday, October 8, 2017

নির্মাতা ইমরুল রাফাত লিখেছেন- ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ভাই একটা সিনেমা দেখলাম। মন জুড়িয়ে গেল। ডিরেক্টর কোনো ক্লাসিক সিনেমা বানানোর চেষ্টা করেননি। সাধারণ দর্শক যা চায় তার সবকিছুই ছিল এই সিনেমায়। অ্যাকশন, ইমোশন পুরোই মাসালা মুভি। আমাদের দেশে মাসালা মুভিই বানানো হয়, কিন্তু সব খ্যাত। ঢাকা অ্যাটাক একটি স্মার্ট মুভি যেটা অনেক স্পাইসি। অ্যারাঞ্জমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ছিল যেটা না বললেই না। যদিও অ্যাকশনে হলিউডি স্টাইল না থাকলেও, আমাদের দেশিয় ফ্লেভারে ফাটাফাটি ছিল এই প্রথম আমাদের অ্যাকশন সিনগুলো রিয়েল মনে হয়েছে। যে কথা না বললেই নয় যেখানে আমাদের ডিরেক্টর দাদা দীপঙ্কর দীপন সফল হয়েছেন তা হলো গল্প এবং স্ক্রিনপ্লে। অসাধারণ। গল্প এবং গল্প বলার ধরনের কারণেই আসলে সবকিছু ভালো লেগেছে। আরেকটি পজিটিভ দিক সব অভিনেতা অভিনেত্রীর পারফরমেন্স খুবই ভালো হয়েছে। আরিফিন শুভ ভাই অনেক ম্যাচিউরড অ্যাক্টিং করেছেন, একজন রিয়েল পুলিশ অফিসারই মনে হয়েছে। এবিএম সুমন এতদিন মডেলিং থেকে যারা আসত শুধু বডি আর চেহারাই থাকত, অভিনয় জ্ঞান থাকত না ,আপনি ব্যতিক্রম। ইউ আর অ্যা কমপ্লিট প্যাকেজ। শতাব্দী ওয়াদুদ তুমি তো সবসময় ভালো অভিনয় করো, আর কী বলব? দ্য ট্রাম্প কার্ড তাসকিন রহমান। হোয়াট অ্যা সারপ্রাইজ প্যাকেজ। অসাধারণ লুক অসাধারণ অভিনয়। স্টিল দ্য শো দেশের প্রথম ভিলেন যার উপর মেয়েরা ক্রাশ খেতে পারে। মাহিয়া শারমিন আক্তার নিপা ওয়াজ সো সুইট অ্যাজ এভার। সানি সানোয়ার কামস আপ ইউথ অ্যা ব্র্যান্ড নিউ কনসেপ্ট। আর যারা ছিলেন কাজী নওশোভা আহমেদ, শিখা খান, নিকুল কুমার মণ্ডল, কেমিক্যাল ইকরাম সবাই খুব ভালো করেছেন। পুরো টিমকে শুভেচ্ছা। যারা দেখেননি এখনি হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখে ফেলুন।’

এই সিনেমাটি বাংলাদেশের প্রথম পুলিশ অ্যাকশন থ্রিলার। ছবিটির পরিবেশনা সংস্থা টাইগার মিডিয়া। ছবিটি ঢাকাসহ সারাদেশের ১২২টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে।

পরিশেষে বলা চলে, ঢাকা অ্যাটাক শুধুমাত্র একটি সিনেমা হয়েই থাকবে না, এটি একটি দৃষ্টান্তও স্থাপন করতে চলেছে বোধহয়।

নিচে দেখুন ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবিটি দেখে ‘স্টার গল্প’ দেওয়া তারকাদের প্রতিক্রিয়া।